
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের চার বছর পূর্তিতে মস্কোর বিরুদ্ধে বড় পরিসরের নতুন নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেছে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড। ইউক্রেনের প্রতি সংহতি প্রকাশ এবং রুশ আগ্রাসনের প্রতিবাদে দুই দেশ যৌথভাবে ২৮০ জন ব্যক্তি, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এবং তথাকথিত ‘ছায়া জাহাজের’ ওপর এ বিধিনিষেধ আরোপ করে।
মঙ্গলবার প্রকাশিত পৃথক ও যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয়, এই পদক্ষেপের লক্ষ্য হলো রাশিয়ার অর্থনৈতিক ও জ্বালানি সক্ষমতায় চাপ সৃষ্টি করা এবং আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এড়ানোর প্রচেষ্টা রোধ করা।
অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজ, প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রিচার্ড মার্লেস এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওং এক যৌথ বিবৃতিতে জানান, রাশিয়ার ১৮০ জন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে রাশিয়ার—
ক্যানবেরা জানায়, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসন শুরুর পর এটিই তাদের পক্ষ থেকে ঘোষিত সবচেয়ে বড় নিষেধাজ্ঞা প্যাকেজ।
অস্ট্রেলিয়া এবার প্রথমবারের মতো রাশিয়ার ক্রিপ্টোকারেন্সি বা ডিজিটাল মুদ্রা লেনদেনের সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপরও বিধিনিষেধ দিয়েছে। সরকারের দাবি, এসব প্রতিষ্ঠান সীমান্ত পারাপারের আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এড়াতে মস্কোকে সহায়তা করছিল।
নতুন পদক্ষেপের ফলে রাশিয়ার বিরুদ্ধে অস্ট্রেলিয়ার মোট নিষেধাজ্ঞার সংখ্যা ১ হাজার ৮০০ ছাড়িয়েছে। পাশাপাশি রুশ অপরিশোধিত তেলের মূল্যসীমা প্রতি ব্যারেল ৪৭.৬০ ডলার থেকে কমিয়ে ৪৪.১০ ডলারে নামিয়ে আনা হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, “আমরা রাশিয়ার তেল রাজস্ব কমিয়ে আনার জন্য চাপ অব্যাহত রাখব। বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলো যেন অসাবধানতাবশত তাদের সরবরাহ ব্যবস্থার মাধ্যমে ইউক্রেনে রাশিয়ার অবৈধ আগ্রাসনে অর্থায়ন না করে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকা জরুরি।”
অস্ট্রেলিয়া মস্কোর প্রতি যুদ্ধ অবিলম্বে বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে এবং যুদ্ধবন্দিদের সঙ্গে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন অনুযায়ী আচরণের দাবি তুলেছে।
নিউজিল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী উইনস্টন পিটারস ঘোষণা করেন, রাশিয়ার বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি ইউক্রেনের জন্য ৮০ লাখ ডলারের অতিরিক্ত সহায়তা দেওয়া হবে।
ওয়েলিংটনের পক্ষ থেকে জানানো হয়—
নিউজিল্যান্ডের দাবি, এসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান রাশিয়ার সামরিক খাতে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সহায়তা করছে এবং ইউক্রেনে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে ভূমিকা রাখছে।
এদিকে জাপান ইউক্রেনের পুনর্গঠন ও মানবিক সহায়তায় তাদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে। জাপানের চিফ ক্যাবিনেট সেক্রেটারি মিনোরু কিহারা জানিয়েছেন, টোকিও জি-৭ দেশগুলোর সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ চালিয়ে যাবে।
২০২২ সাল থেকে এ পর্যন্ত ইউক্রেনকে প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে জাপান, যা দেশটির অন্যতম বড় আন্তর্জাতিক সহায়তা কর্মসূচির অংশ।
বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়ার তেল রপ্তানি ও আর্থিক লেনদেনের ওপর নতুন করে চাপ সৃষ্টি করে মস্কোর যুদ্ধ সক্ষমতা দুর্বল করাই পশ্চিমা দেশগুলোর মূল লক্ষ্য। ‘ছায়া জাহাজ’—যেগুলো নিষেধাজ্ঞা এড়াতে ভিন্ন পতাকা বা জটিল মালিকানা কাঠামো ব্যবহার করে তেল পরিবহন করে—সেগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করায় রাশিয়ার জ্বালানি রপ্তানিতে সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের চতুর্থ বছরে প্রবেশের প্রেক্ষাপটে অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও জাপানের এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক মহলে মস্কোর ওপর কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়াবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মোঃ ছালেহ্ আহম্মেদ। মোবাইলঃ +8801642414393 মেইলঃ matrinewsbd@gmail.com
মাতৃ নিউজ সাইটি কপিরাইটের আন্ডারে