
বুকের বাঁ পাশে তীব্র ব্যথা মানেই হার্ট অ্যাটাক—এমন ধারণা প্রচলিত থাকলেও বাস্তবে বিষয়টি সবসময় এত সরল নয়। অনেক সময় হৃদযন্ত্র বড় ধরনের জটিলতার আগে শরীরকে বিভিন্ন সতর্ক সংকেত দেয়। কিন্তু আমরা সেগুলোকে সাধারণ ক্লান্তি, গ্যাস বা বদহজম ভেবে অবহেলা করি। বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব প্রাথমিক উপসর্গ চিনে দ্রুত ব্যবস্থা নিলে বড় বিপদ এড়ানো সম্ভব।
হার্ট অ্যাটাক সব সময় তীব্র বুকব্যথা দিয়ে শুরু হয় না। শরীরের বিভিন্ন অংশে ভিন্ন ধরনের অস্বস্তি দেখা দিতে পারে—যা হৃদরোগের পূর্বাভাস হতে পারে।
হঠাৎ করে অতিরিক্ত ক্লান্ত লাগা, অথচ কাজের চাপ বা ঘুমের ঘাটতির মতো স্পষ্ট কারণ না থাকা—এটি সতর্কবার্তা হতে পারে।
২০২১ সালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় দেখা গেছে, অকারণ তীব্র অবসাদের সঙ্গে হৃদরোগের সম্পর্ক থাকতে পারে।
দৈনন্দিন স্বাভাবিক কাজ—যেমন হাঁটা, রান্না বা সিঁড়ি ভাঙা—করতেই যদি অস্বাভাবিক ক্লান্তি আসে, তবে তা গুরুত্বের সঙ্গে দেখা উচিত।
হাঁটা, সিঁড়ি ভাঙা কিংবা সোজা হয়ে শোয়ার সময় বুকে চাপ অনুভব করা বা শ্বাসকষ্ট হওয়া হার্টের সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে।
হঠাৎ শ্বাসকষ্ট, বুকের অস্বস্তি বা ভারী লাগা—এসব লক্ষণকে অবহেলা করা ঠিক নয়।
হৃদযন্ত্রের সমস্যা হলে ব্যথা শুধু বুকে সীমাবদ্ধ থাকে না। অনেক সময় ব্যথা ছড়িয়ে যেতে পারে—
অনেকে একে গ্যাসের ব্যথা বা মাংসপেশির টান বলে ভুল করেন। চিকিৎসকদের মতে, স্নায়ুর মাধ্যমে এই ব্যথা শরীরের বিভিন্ন অংশে অনুভূত হতে পারে।
পেটফাঁপা, অম্বল, গ্যাস বা অস্বস্তি—এসব উপসর্গ অনেক সময় হার্ট অ্যাটাকের আগাম সংকেত হতে পারে, বিশেষ করে নারীদের ক্ষেত্রে।
অতিরিক্ত ঘাম, দুর্বলতা ও হজমের গোলমাল একসঙ্গে দেখা দিলে সতর্ক হওয়া জরুরি।
শুধু অম্বলের ওষুধ খেয়ে সমস্যাকে চাপা দেওয়া উচিত নয়। উপসর্গ বারবার হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
১। নিয়মিত রক্তচাপ ও রক্তে শর্করার মাত্রা পরীক্ষা করুন।
২। সব ধরনের তামাকজাত দ্রব্য বর্জন করুন।
৩। প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটা বা হালকা ব্যায়ামের অভ্যাস গড়ে তুলুন।
৪। মানসিক চাপ কমান এবং পর্যাপ্ত (৭–৮ ঘণ্টা) ঘুম নিশ্চিত করুন।
৫। অতিরিক্ত লবণ ও চর্বিযুক্ত খাবার এড়িয়ে সুষম খাদ্যাভ্যাস অনুসরণ করুন।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মোঃ ছালেহ্ আহম্মেদ। মোবাইলঃ +8801642414393 মেইলঃ matrinewsbd@gmail.com
মাতৃ নিউজ সাইটি কপিরাইটের আন্ডারে