সাভার প্রতিনিধি:
রাজপথের বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রাম, প্রতিবাদ মিছিল এবং সাংগঠনিক কর্মসূচিতে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় ভূমিকা রেখে নেতাকর্মীদের মাঝে পরিচিতি পেয়েছেন ছাত্রদল নেতা মো. সজীব রায়হান। রাজনৈতিক নানা প্রতিকূলতা, মামলা-হামলা ও জেল-জুলুমের মধ্যেও তিনি সংগঠনের কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত থেকে ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছেন বলে সহকর্মীরা জানান। বর্তমানে তিনি ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন।
নেতাকর্মীদের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়েও বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন কর্মসূচিতে তিনি নিয়মিত মাঠে উপস্থিত ছিলেন। দলীয় মিছিল, সমাবেশ, প্রতিবাদ সভা, আন্দোলন কর্মসূচি ও সাংগঠনিক কার্যক্রমে সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে তিনি সংগঠনের রাজপথের রাজনীতিতে নিজেকে সম্পৃক্ত রেখেছেন।
মো. সজীব রায়হান ঢাকা জেলা উত্তর ছাত্রদলের সাবেক সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। দায়িত্ব পালনকালে সংগঠনের নানা আন্দোলন, প্রতিবাদ কর্মসূচি ও মিছিলে তার সক্রিয় উপস্থিতি তাকে নেতাকর্মীদের কাছে পরিচিত করে তোলে।
সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় লেখক মুস্তাক আহমেদের কারাগারে মৃত্যুর প্রতিবাদ এবং সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের খেতাব বাতিলের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল একটি সমাবেশ কর্মসূচি পালন করে। কর্মসূচির একপর্যায়ে পুলিশের সঙ্গে ছাত্রদল নেতাকর্মীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরবর্তীতে সেই ঘটনায় দায়ের করা মামলায় সজীব রায়হানের নামও অন্তর্ভুক্ত করা হয়।সাভার পৌর এলাকার কোটবাড়ি মহল্লা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
এদিকে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০২১ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারির ঘটনার প্রায় ২১ মাস পর, ২০২২ সালের ৩ নভেম্বর তাকে আবারও গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর তাকে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) কার্যালয়ে নেওয়া হলে সেখানে তৎকালীন ডিবি প্রধান হারুনের নেতৃত্বে তাকে শারীরিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
সজীব রায়হানের ঘনিষ্ঠদের দাবি, আটক অবস্থায় তাকে মারধর ও শারীরিকভাবে কঠোর নির্যাতন করা হয়। নির্যাতনের কারণে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরবর্তীতে কারাগারে যাওয়ার পর প্রায় ২৮ দিন তিনি নিজে থেকে বিছানা থেকে উঠতে পারেননি। সে সময় সহবন্দী ও সহযোদ্ধারাই তাকে বাথরুমে নিয়ে যেতে সহায়তা করতেন।
নেতাকর্মীরা বলেন, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় অংশগ্রহণের পাশাপাশি মামলা, জেল-জুলুম ও নানা প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্য দিয়েও তিনি সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকেছেন। বিভিন্ন আন্দোলন, প্রতিবাদ মিছিল ও সাংগঠনিক কর্মসূচিতে তার অংশগ্রহণের ছবি ও তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও নিয়মিত দেখা যায়।
নেতাকর্মীদের ভালোবাসা ও সমর্থন নিয়ে সামনে আরও বড় পরিসরে সংগঠনের জন্য কাজ করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন সজীব রায়হান। তাদের মতে, দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রাম, ত্যাগ এবং সাংগঠনিক অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে তিনি কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের নেতৃত্বে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবেন।
ত্যাগী ও রাজপথের আন্দোলনে সক্রিয় নেতাদের মূল্যায়নের আহ্বান জানিয়ে নেতাকর্মীরা বলেন, যারা দীর্ঘদিন মাঠে থেকে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছেন, তাদের নেতৃত্বে এনে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন। সেই প্রত্যাশা থেকেই তারা সজীব রায়হানের প্রতি সমর্থন ও ভালোবাসা প্রকাশ করেছেন।